প্ল্যান চালু Starter ৳299/মাস থেকে—বিকাশ বা নগদে পেমেন্ট প্ল্যান দেখুন

সব লেখা
হাতে একগাদা পার্সেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কুরিয়ার কর্মী
ডেলিভারি ২০ আগস্ট ২০২৬

ডেলিভারি চার্জ কীভাবে ঠিক করবেন

ছবি: Pexels

আগে নিজের খরচ জানুন

একটি পার্সেল পাঠাতে কুরিয়ার, প্যাকেজিং ও যাতায়াত—সব মিলিয়ে কত খরচ হয়, সেটি আগে হিসাব করুন। এরপর সেই খরচের সঙ্গে সামান্য ব্যবধান রেখে চার্জ ঠিক করুন।

কুরিয়ারের হার ওজন ও এলাকা অনুযায়ী বদলায়। আবার টেপ, স্টিকার, বুদবুদ র‍্যাপ আর যাতায়াতের খরচও আছে। এই খরচগুলো এক জায়গায় লিখে রাখলে ডেলিভারি চার্জ ঠিক করা অনেক সহজ হয়।

একটা সহজ হিসাব

ধরা যাক একটি পণ্যের ক্রয়মূল্য ৫০০ টাকা, বিক্রয়মূল্য ৭৫০ টাকা। কুরিয়ার ৮০ টাকা আর প্যাকেজিং ১৫ টাকা। তাহলে প্রতিটি অর্ডারে ১৫৫ টাকা বাকি থাকে। এই ১৫৫ টাকা থেকেই আপনার সময়, পেমেন্ট চার্জ আর ফেরতের খরচ যাবে।

ফেরতের সম্ভাবনা ভুলে যাবেন না। প্রতি দশটি অর্ডারে একটি ফিরে এলে প্রতিটি অর্ডারেই ফেরতের খরচের একটা ভাগ ধরতে হবে। এই হিসাব করে দাম ঠিক করলে হঠাৎ কুরিয়ার বিল দেখে আতঙ্কিত হতে হবে না।

  • পণ্যের ক্রয়মূল্য।
  • কুরিয়ার ও প্যাকেজিং খরচ।
  • ফেরত আসার সম্ভাব্য খরচ।
  • নিজের পরিশ্রম ও পেমেন্ট চার্জ।
  • এরপর বাকি টাকাই লাভ।

এলাকা অনুযায়ী আলাদা চার্জ

ঢাকার ভিতরে ও বাইরে ডেলিভারি খরচ সাধারণত আলাদা। স্টোরের সেটিংসে দুটি হার আলাদা রাখলে প্রতিটি অর্ডারে সঠিক চার্জ বসবে।

দূরের এলাকায় চার্জ বেশি রাখতে হলে সেটি চেকআউটে স্পষ্ট দেখান। লুকানো চার্জ রাখলে ক্রেতা শেষ ধাপে অর্ডার বাতিল করতে পারেন।

একই জেলার ভিতরেও শহর ও গ্রামের কুরিয়ার সুবিধা আলাদা হতে পারে। যেসব এলাকায় কুরিয়ার পৌঁছায় না, সেগুলো নীতিমালায় আলাদা করে লিখে দিন।

ফ্রি ডেলিভারির সীমা

একটি নির্দিষ্ট অর্ডার মূল্যের ওপরে ফ্রি ডেলিভারি দিলে গড় অর্ডার মূল্য বাড়ে। তবে সীমাটি এমনভাবে ঠিক করুন যাতে কুরিয়ার খরচ কেটেও লাভ থাকে।

কুরিয়ার খরচ ৮০ টাকা আর আপনি ৫০০ টাকার ওপরে ফ্রি ডেলিভারি দিচ্ছেন—তাহলে ওই ৮০ টাকা পণ্যের লাভ থেকেই যাবে। তাই সীমাটি ৬০০ বা ৭০০ টাকা রাখলে গড় অর্ডার বাড়ে, আর লাভও কমে না।

ওজন ও সাইজের প্রভাব

কুরিয়ার অনেক সময় ওজন অনুযায়ী চার্জ করে। বেশি মোটা বাক্স বা অতিরিক্ত প্যাকেজিং ব্যবহার করলে চার্জ বাড়ে। হালকা পণ্যের জন্য উপযুক্ত সাইজের বাক্স বেছে নিন।

ভঙ্গুর পণ্যে বেশি র‍্যাপ দরকার, সেটি ঠিক আছে—কিন্তু অপ্রয়োজনে বড় বাক্স নয়। একই ক্রেতার একাধিক পণ্য একসঙ্গে এলে এক প্যাকেজে পাঠালে চার্জ কমতে পারে।

  • পণ্যের জন্য উপযুক্ত সাইজের বাক্স নিন।
  • ভঙ্গুর পণ্যে ঠিকমতো র‍্যাপ দিন, বাড়তি বাক্স নয়।
  • একই ক্রেতার একাধিক পণ্য একসঙ্গে পাঠান।
  • কুরিয়ারের ওজন সীমা জেনে রাখুন।

রিটার্নের খরচ কে দেবে

পণ্য ভুল বা ভাঙা এলে দায় স্টোরের। সেক্ষেত্রে ফেরত বা বদলের খরচ নিজে নেওয়াই ভালো—এতে ক্রেতার আস্থা বাড়ে, আর খারাপ রিভিউ কমে।

ক্রেতা শুধু মত বদলালে কে খরচ দেবে, সেটি নীতিমালায় আগেই লিখুন। অনেক স্টোর প্রথম ক্ষেত্রে ফ্রি রিটার্ন দেয়, আর দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ক্রেতার কাছ থেকে কুরিয়ার চার্জ নেয়।

এক্সপ্রেস ডেলিভারি

এক্সপ্রেস ডেলিভারি থাকলে আলাদা চার্জ রাখুন এবং কত সময় লাগবে সেটি পণ্যের পাতায় আগেই জানিয়ে দিন। "দ্রুত ডেলিভারি" লিখে সময় না বললে ক্রেতা পরে অভিযোগ করেন।

এক্সপ্রেস চার্জ যেন আসল বাড়তি খরচের সঙ্গে মেলে। খুব কম নিলে নিজের লাভ কমবে, আবার বেশি নিলে কেউ নেবেন না।

কুরিয়ার বেছে নেওয়ার সময় কী দেখবেন

শুধু কম দাম দেখে কুরিয়ার বাছবেন না। এলাকায় কত দ্রুত পৌঁছায়, ট্র্যাকিং আছে কি না, আর ফেরতের সময় কেমন ব্যবহার করে—এগুলোও দেখুন।

একই কুরিয়ারে সব পার্সেল পাঠাতে হবে না। ঢাকার ভিতরে এক কুরিয়ার ভালো, বাইরে আরেকটি সুবিধাজনক হতে পারে। দুটি অপশন থাকলে ক্রেতার এলাকা অনুযায়ী বেছে নিতে পারবেন।

  • এলাকা অনুযায়ী পৌঁছানোর সময়।
  • ট্র্যাকিং ও যোগাযোগের সুবিধা।
  • ফেরত পার্সেল সামলানোর নিয়ম।
  • প্রতি কেজি বা প্রতি পার্সেলের হার।

চার্জ কোথায় দেখাবেন

ডেলিভারি চার্জ যতই হোক, লুকানো থাকলে ক্রেতা বিরক্ত হন। চেকআউটে টাকা যোগ হওয়ার আগেই চার্জটি দেখান, আর পণ্যের পাতায় বা নীতিমালায়ও লিখে রাখুন।

  • চেকআউটে ডেলিভারি চার্জ আলাদা লাইনে।
  • ঢাকা ও বাইরের জন্য আলাদা হার।
  • ফ্রি ডেলিভারির শর্ত স্পষ্ট।
  • এক্সপ্রেস ডেলিভারির বাড়তি চার্জ।

কখন চার্জ বদলাবেন

কুরিয়ার হার বাড়লে বা ফেরতের সংখ্যা বাড়লে ডেলিভারি চার্জ পুনরায় দেখুন। মাসে একবার কুরিয়ারের বিল আর নিজের খরচ মিলিয়ে নিন।

চার্জ বদলালে সেটি আগে থেকেই স্টোরে আপডেট করুন। হঠাৎ করে একদিন বেশি চার্জ দেখালে ক্রেতা ভরসা হারান।

শেষ কথা

কম ডেলিভারি চার্জ সবসময় ভালো নয়, আবার বেশি চার্জও নয়। আসল কথা হলো—চার্জটি আপনার খরচের সঙ্গে মিলছে কি না, আর ক্রেতা সেটি আগেই দেখতে পাচ্ছেন কি না।

হিসাবটা পরিষ্কার থাকলে ছাড় দেওয়ার সময়ও ভয় থাকবে না। কত কমে বিক্রি করলে লাভ থাকে, সেটি আপনি নিজেই জানবেন।

আরও পড়ুন

আজই শুরু করুন

আপনার স্টোরের প্রথম অর্ডারটি
আজই আসতে পারে।

মিনিটেই নিজের স্টোর খুলুন। পণ্য যোগ করুন, সাজিয়ে পাবলিশ করুন—তারপর লিংকটি ক্রেতাদের সঙ্গে শেয়ার করুন।