প্ল্যান চালু Starter ৳299/মাস থেকে—বিকাশ বা নগদে পেমেন্ট প্ল্যান দেখুন

সব লেখা
স্টোরের অর্ডার ও স্টক মিলিয়ে দেখছেন দুই উদ্যোক্তা
শুরুর গাইড ১২ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন স্টোর খোলার আগে যে ৭টি বিষয় গুছিয়ে নেবেন

ছবি: Pexels

শুরুটা পরিষ্কার রাখুন

অনলাইন স্টোর মানে শুধু একটি লিংক নয়। ক্রেতা যখন ঢুকবে, তখন তার পণ্য, দাম, ডেলিভারি সময় আর যোগাযোগের নিয়ম পরিষ্কার পাওয়া উচিত। শুরুতেই কয়েকটি বিষয় ঠিক করে নিলে প্রতিদিনের কাজ সহজ হয়।

অনেকেই প্রথমে স্টোরের রং আর ব্যানার নিয়ে ভাবেন, অথচ ক্রেতা সেখানে থামেনই না যদি পণ্যের ছবি ঝাপসা হয় বা ডেলিভারি চার্জ কোথাও লেখা না থাকে। তাই সাজানোর আগে সিদ্ধান্তগুলো গুছিয়ে নিন।

যে সাতটি বিষয় আগে ঠিক করুন

নিচের সাতটি প্রশ্নের উত্তর হাতে থাকলে স্টোর খোলার কাজ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যায়। উত্তরগুলো লিখে রাখুন, যাতে পরে আবার ভাবতে না হয়।

  • কোন পণ্য বেচবেন এবং কোন পণ্যগুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হবে।
  • প্রতিটি পণ্যের দাম, লাভ এবং ছাড়ের সীমা।
  • ঢাকার ভিতরে ও বাইরে ডেলিভারি চার্জ।
  • ক্যাশ অন ডেলিভারি ছাড়া অন্য কোনো পেমেন্ট রাখবেন কি না।
  • পণ্যের ছবি, সাইজ, উপাদান এবং যত্নের তথ্য।
  • দিনে কতগুলো অর্ডার নিজে সামলাতে পারবেন।
  • ফেরত, বাতিল ও স্টক শেষ হলে কী হবে—সেই নিয়ম।

পণ্য বাছাই: কম দিয়ে শুরু করুন

প্রথম দিনেই পঞ্চাশটি পণ্য তোলার দরকার নেই। ১০–১৫টি পণ্য দিয়ে শুরু করলে ছবি তোলা, দাম ঠিক করা আর স্টক মেলানো সহজ হয়। কোন পণ্য বেশি বিক্রি হয়, আর কোনোটির ফেরত বেশি আসে—প্রথম মাসেই বোঝা যায়।

যে পণ্য নিজে ব্যবহার করেন বা ভালোভাবে চেনেন, সেটি বেছে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। ক্রেতা প্রশ্ন করলে সহজে উত্তর দিতে পারবেন, আর সমস্যা হলে সমাধানও দ্রুত হবে।

  • সারা বছর চাহিদা থাকে এমন পণ্য বেছে নিন।
  • ওজন কম, তাই কুরিয়ার খরচও কম।
  • স্থানীয় বাজারে সহজে পাওয়া যায় এবং দাম বাড়ে না।
  • ভাঙা বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কম।

স্টোরের নাম ও পরিচিতি

স্টোরের নাম এমন রাখুন যা বলতে ও মনে রাখতে সহজ। নামের সঙ্গে কী বেচেন, সেটি এক লাইনে লিখুন—যেমন "ঘরের তৈরি ক্যান্ডেল ও গিফট"। ক্রেতা প্রথম দেখেই বুঝবেন তিনি সঠিক জায়গায় এসেছেন।

লোগো না থাকলেও চলবে, তবে একটি পরিষ্কার রং আর একই ধরনের ছবি ব্যবহার করলে স্টোর আলাদা দেখায়। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রোফাইল ছবি আর স্টোরের লোগো এক রাখলে ক্রেতা সহজে চিনতে পারেন।

ছবি ও বর্ণনা যেভাবে গোছাবেন

ফোনের ক্যামেরা দিয়েই ভালো ছবি তোলা যায়। দিনের আলোয়, পরিষ্কার পটভূমিতে পণ্য রেখে অন্তত তিনটি ছবি তুলুন—সামনের দিক, পাশ এবং কাছের ডিটেইল। ছবি তোলার আগে পণ্য মুছে নিন, আর ছায়া পড়ে এমন জায়গা এড়িয়ে চলুন।

বর্ণনায় সাইজ, রং, উপাদান আর ব্যবহারের নিয়ম লিখুন। মাপ সেন্টিমিটারে দিলে ক্রেতা সহজে বুঝতে পারেন। ছবিতে যে রং দেখা যাচ্ছে আর বাস্তবে যে রং পাবেন, সেই পার্থক্যও ছোট করে উল্লেখ করুন। এতে রং ভুল বলে ফেরত আসার সংখ্যা কমে।

  • পণ্যের নামে ব্র্যান্ড বা ধরন পরিষ্কার করুন।
  • সাইজ, ওজন ও পরিমাণ আলাদা করে লিখুন।
  • ব্যবহার ও যত্নের নিয়ম সংক্ষেপে দিন।
  • স্টকে কত আছে, তা নিয়মিত মিলিয়ে নিন।

দাম আর লাভের হিসাব

দাম ঠিক করার সময় শুধু পণ্যের ক্রয়মূল্য দেখলে হবে না। প্যাকেজিং, কুরিয়ার, সম্ভাব্য রিটার্ন আর নিজের সময়—সব যোগ করুন। এরপর সেখান থেকে যে বাড়তি টাকা থাকবে, সেটাই আপনার লাভ।

ধরা যাক একটি পণ্যের ক্রয়মূল্য ৪০০ টাকা, প্যাকেজিং ও কুরিয়ার মিলিয়ে ১০০ টাকা। প্রতি দশটি অর্ডারে একটি ফেরত আসে, যার জন্য আবার কুরিয়ার ও প্যাকেজিং খরচ হয়। এই বাড়তি খরচ ধরেই দাম ঠিক করুন, নইলে বিক্রি বাড়লেও লাভ থাকবে না।

  • ক্রয়মূল্য, ডেলিভারি ও প্যাকেজিং আলাদা করে লিখুন।
  • রিটার্নের সম্ভাবনা ধরে সামান্য বাফার রাখুন।
  • ছাড় দেওয়ার আগে দেখুন লাভের কতটা কমছে।
  • মাসে একবার প্রতিটি পণ্যের হিসাব মিলিয়ে নিন।

ডেলিভারি আর পেমেন্টের নিয়ম

ঢাকার ভিতরে ও বাইরে ডেলিভারি খরচ সাধারণত আলাদা। স্টোরের সেটিংসে দুটি হার আলাদা রাখলে প্রতিটি অর্ডারে সঠিক চার্জ বসবে। ক্যাশ অন ডেলিভারির পাশাপাশি অ্যাডভান্স পেমেন্টের সুযোগ রাখলে ভুয়া অর্ডারও কমে।

কোন এলাকায় ডেলিভারি দেন, কত দিন লাগে আর ফেরতের নিয়ম কী—এসব স্টোরের নীতিমালা পাতায় লিখে দিন। ক্রেতা চেকআউটের আগেই দেখতে পাবেন, তাই শেষ মুহূর্তে অর্ডার বাতিলের সংখ্যা কমবে।

  • ডেলিভারি সময়: ঢাকায় ১–২ দিন, বাইরে ২–৪ দিন।
  • চেকআউটে ডেলিভারি চার্জ আগেই দেখানো।
  • পেমেন্ট: ক্যাশ অন ডেলিভারি ও অ্যাডভান্স।
  • ফেরত: পণ্য ভাঙা বা ভুল এলে কী করবেন।

অর্ডার সামলানোর ছোট সেটআপ

একটি খাতা বা স্প্রেডশিটে অর্ডার লিখুন—তারিখ, ক্রেতার নাম, ফোন, ঠিকানা, পণ্য, দাম আর স্ট্যাটাস। অর্ডার নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লিখে ফেললে পরে ক্রেতাকে ফোন করা বা কুরিয়ারে দেওয়ার সময় ভুল কমে।

প্যাকিং টেবিলের কাছে টেপ, কাঁচি, বুদবুদ র‍্যাপ বা পুরোনো কাগজ, মার্কার আর কুরিয়ারের স্লিপ হাতের কাছে রাখুন। এক অর্ডার প্যাক করতে যত কম সময় লাগবে, তত বেশি অর্ডার সামলাতে পারবেন।

নিয়মগুলো লিখে রাখুন

নিয়ম মুখে মুখে না রেখে স্টোরের নীতিমালা পাতায় লিখে রাখুন। ক্রেতা আগেই দেখতে পাবেন, আর আপনাকে একই প্রশ্নের উত্তর বারবার দিতে হবে না।

নীতিমালার সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত সাধারণ প্রশ্ন পাতা যোগ করুন। ডেলিভারি সময়, পেমেন্ট, ফেরত আর স্টক শেষ হলে কী হবে—এই চারটি প্রশ্নের উত্তর থাকলে বেশিরভাগ ক্রেতা নিজেই তথ্য খুঁজে নিতে পারবেন।

প্রথম সপ্তাহের চেকলিস্ট

স্টোর খোলার আগে এই তালিকাটা একবার মিলিয়ে নিন। প্রতিটি ঘরে টিক দেওয়া মানে কাজটা ঠিকভাবে গুছিয়ে ফেলা।

  • স্টোরের নাম, লোগো আর এক লাইনের পরিচিতি ঠিক করা।
  • ১০–১৫টি পণ্যের ছবি ও বর্ণনা দেওয়া।
  • ডেলিভারি চার্জ ও সময় লিখে রাখা।
  • নিজে একটি টেস্ট অর্ডার দিয়ে দেখা।
  • মোবাইলে স্টোর খুলে প্রতিটি পাতা দেখা।
  • পরিবার ও পরিচিতদের সঙ্গে লিংক শেয়ার করা।

শেষ কথা

স্টোর খোলার পরের কয়েকটি অর্ডারেই বোঝা যায় কোথায় সমস্যা। ক্রেতার প্রশ্ন, ফেরতের কারণ আর কুরিয়ারের সময়—এগুলো লিখে রাখুন। মাসের শেষে দেখুন কোন পণ্য লাভ দিচ্ছে আর কোনটি শুধু সময় নিচ্ছে।

ছোট করে শুরু করুন, হিসাব ঠিক রাখুন, আর ক্রেতার সঙ্গে পরিষ্কার কথা বলুন। এটুকু থাকলে বাকি কাজগুলো ধীরে ধীরে নিজে থেকেই সহজ হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন

আজই শুরু করুন

আপনার স্টোরের প্রথম অর্ডারটি
আজই আসতে পারে।

মিনিটেই নিজের স্টোর খুলুন। পণ্য যোগ করুন, সাজিয়ে পাবলিশ করুন—তারপর লিংকটি ক্রেতাদের সঙ্গে শেয়ার করুন।